২ হাজার ২৫ টাকায় মিলছে লাইসেন্স : অতিরিক্ত যানবাহনে অতিষ্ট কুষ্টিয়াবাসী

নাব্বির আল নাফিজ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

 

কুষ্টিয়া শহরবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা তথা ইজি বাইক। প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি অটো রিকশা চলাচল করে শহরে। এতে প্রতিনিয়ত যানজটের নাকাল হয় মানুষ। কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না ইজি বাইকের সংখ্যা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে বারবার উদ্যোগ নিলেও, রাজনৈতিক নেতাদের অনীহা, সমন্বয়হীনতা ও পৌরসভার অবহেলা, অসহযোগিতার কারণে বিষয়টির কোনো সমাধান হচ্ছে না। পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌরসভার লাইসেন্স শাখা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৮ জন শহরে ইজিবাইকের ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স করেছিল। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যোগ হয়েছে আরও হাজার খানেক অটো।

সূত্র জানায়, এক বছরের জন্য একটি ইজি বাইককে ভ্যাট ট্যাক্স মিলে ২ হাজার ২৫ টাকা দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করতে দিতে হয়। এরপর লাইসেন্স দেওয়া ইজিবাইকগুলো পৌর এলাকায় চলার অনুমতি পায়। ইজি বাইক চালক পরিষদের হিসাব মতে শহরে অন্তত ৬ থেকে ৭ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। ইজি বাইক চালকদের আলাদা সমিতি রয়েছে শহরে। তারা প্রতিদিন এসব ইজিবাইক থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে।

ইজি বাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ বলেন, তার পরিষদে ২ হাজার ৩৯টি ইজি বাইক আছে, সেগুলো শহরে চলাচল করে। এর বাইরে আরও ৬ হাজার ইজি বাইক শহরে চলছে, যেগুলো পৌরসভার বাইরে থেকে আসে। এরাই মূলত শহরে যানজট তৈরি করছে। অনেক মালিক ইজি বাইক কিনে পৌরসভায় চাঁদা দিয়ে শহরে চালানোর বৈধতা পেয়ে যান। যাদের বাড়ি অন্য উপজেলায়।’

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের সবচেয়ে বেশি ইজ বাইক জট লাগে তিনটা রুটে। সেগুলো হলো, মজমপুর থেকে এনএস রোড হয়ে বড় বাজার, থানামোড় থেকে মোল্লাতেঘরিয়া ও পলিটেকনিক থেকে কলেজ ও হাসপাতাল মোড় হয়ে সাদ্দাম বাজার পর্যন্ত। এই তিন সড়কে মোট পাঁচ কিলোমিটারে দুই হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করে। কলেজ মোড়, হাসপাতাল মোড় ও কোর্টস্টেশন মোড়ে সকালে ও বিকালে সবেচেয়ে বেশি জট বাঁধে।

এ ছাড়া শহরের মাঝে একাধিক স্টেশন ও রেলগেট থাকায় যানজটের মাত্রা দিনদিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইজিবাইক চালানো বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ ছাড়া ইজিবাইক ঘিরে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট । এ কারণে ইজিবাইক দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এবিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, অবৈধ ইজিবাইক শহরের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট করছে তেমনি যানজট বাড়াচ্ছে। সব পক্ষ উদ্যোগ নিলে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা খুবই সহজ হতো। তার জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

 

 

 

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ