স্কুল ছাত্রী জেরিন এর মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন

স্কুল ছাত্রী জেরিন এর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন দূর্ঘটনা নয়, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অপহরণ ও হত্যাই মূল কারণ বলে দাবি করছে শিক্ষার্থীরা।

আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান রিচি উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থী সহ এলাকার জনগণ ।তাদের একটাই দাবি আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।এই ভাবে যেন জেরিন এর মতো আর কোন মেধাবী কে না হারাতে হয় কোন পরিবার।

এর আগে গত ১৮/০১/২০২০খ্রিঃ তারিখ শনিবার হবিগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন ১নং লোকড়া ইউ/পি’র অন্তর্গত ধল গ্রামের মদিনাতুল কুবরা প্রকাশ জেরিন (১৬) রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। সে এবছর ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে সুশ্রী ও মেধাবী ছাত্রী ছিল। ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তিও পেয়েছিল। এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে স্কুলে সকাল ৮.০০ ঘটিকায় কোচিং ক্লাসে গত প্রায় ২মাস থেকে যাওয়া আসা করত। তার বাড়ী থেকে প্রায় ০৩ কিঃ মিঃ দূরে রিচি উচ্চ বিদ্যালয়। তার বাড়ীর নিকটে ধল তেমুনিয়া পয়েন্ট থেকে ফোর স্টোক সিএনজি দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতো।
ভিকটিম জেরিন এর একই গ্রামের মোঃ দিদার হোসেন এর ছেলে মোঃ জাকির হোসেন(২৫) এর কু-দৃষ্টি পড়ে জেরিন এর উপর। সে বিভিন্ন সময় জেরিন কে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। জেরিন তার প্রস্তাবে রাজি হতো না। গত প্রায় ১মাস পূর্বে জেরিন কে রাস্তায় পেয়ে আসামী জাকির হোসেন পূনরায় প্রেমের প্রস্তাব দিলে জেরিন তা প্রত্যাখ্যান করায় আসামী জাকির হোসেন তাকে গালমন্দ করে। বিষয়টি জেরিন তার মা-বাবাকে জানায়। জেরিন এর বাবা আসামী জাকিরের পরিবারকে বিষয়টি জানাইলে জাকির এর বাবা ও বড় ভাই ভিকটিম এর বাড়ীতে আসে এবং পরবর্তীতে জাকির হোসেন জেরিনকে আর উত্যক্ত করবে না বলে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়। আসামী জাকির হোসেন তার পরিবারে বিচার দেওয়ায় ভিকটিমের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সে জেরিনকে অপহরণ করে হত্যার পরিকল্পনা করে। আসামী জাকির সিএনজি চালক নুর আলম(২০) ও তার বন্ধু হৃদয়(২০), উভয় ,( থানা ও জেলা- হবিগঞ্জ)দ্বয়কে নিয়ে জেরিন কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮/০১/২০২০খ্রিঃ শনিবার সকাল ০৭.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের বাড়ীর পাশের লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কের তেমুনিয়া পয়েন্টে অবস্থান নেয়। আসামী জাকির হোসেন একই রাস্তায় সামান্য দূরে রাস্তায় অবস্থান নেয়।জেরিন আক্তার প্রতিদিনের ন্যায় স্কুলে যাওয়ার জন্য তেমুনিয়া পয়েন্টে গেলে সকাল অনুমান ৭.৪০ ঘটিকার সময় সিএনজি গাড়ীতে উঠে। চালক নুর আলম ও তার বন্ধু হৃদয় ভিকটিম কে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সামান্য দূরে পথিমধ্যে পূর্ব থেকে অবস্থান নেয়া আসামী জাকির হোসেনকে গাড়ীতে উঠানো হয়। সিএনজি গাড়ী রিচি স্কুলের প্রথম গেইট ও ২য় গেইটে না থামালে ভিকটিম বুঝতে পারে আসামীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় সে গাড়ীতে জেরিন এর সাথে আসামীদের ধস্তাধস্তি অথবা কোন ভাবে ধাক্কার কারনে পড়ে গিয়ে গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মাথায় জখমের কারনে জেরিন ঠিকমতো কথা বলতে পারে নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯/০১/২০২০ খ্রিঃ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় জেরিন আক্তার মৃত্যুবরণ করে। জেরিন আক্তার সিএনজি দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে সংবাদটি এলাকার সকলের কাছে আসা শুরু হলে রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ ও সড়ক অবরোধ শুরু করে।সদর থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম পিপিএম জানান :সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে খবর পেয়ে আমি, হবিগঞ্জ সদর সার্কেল, অফিসার ইনচার্জ, সদর থানা এবং পুলিশের একটি টিম রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদেরকে এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

জেরিন এর মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সিএনজি গাড়ী থেকে পড়ে দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রকাশ পায়। ভিকটিমের পরিবারও জেরিন আক্তার সিএনজি গাড়ী থেকে পড়ে দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মনে করে সিলেট থেকে ভিকটিমের মৃত দেহ ময়না তদন্ত ছাড়া পুলিশকে না জানিয়ে দাফন করে। তবে পুলিশ বিষয়টি নিবিড় ভাবে খতিয়ে দেখে ঘটনার পিছনে আরো ঘটনা জানতে পারে। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম, হবিগঞ্জ সার্কেল এর নেতৃত্ত্বে অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলী, পুলিশ পরিদর্শক দৌস মোহাম্মদ, পুলিশ পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া হাসান, এসআই/সাহিদ মিয়া, এসআই/পলাশ চন্দ্র দাসসহ পুলিশের দুইটি টিম গঠন করে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রকাশ্য ও গোপনে কার্যক্রম অব্যহত রাখা হয়। তদন্তকালে অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি গাড়ীটি সনাক্ত করে (হবিগঞ্জ থ-১১-৩২২৫) গাড়ীটি ২০/০১/২০২০ তারিখ রাতে পলাতক আসামী নুর আলম এর বাড়ী হতে উদ্ধার করা হয়।
ভিকটিম এর পিতা আব্দুল হাই ২০/০১/২০২০ খ্রিঃ তারিখ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মেয়েকে অপহরণ ও খুনের দায়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মাসুক আলী, অফিসার ইনচার্জ, সদর মডেল থানা, হবিগঞ্জ মামলার তদন্তভার গ্রহন করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। জানা যায়, ভিকটিম এর একই গ্রামের দিদার হোসেন এর ছেলে জাকির হোসেন(২৫) জেরিন আক্তারকে বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দিত। জেরিন আক্তার তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এবং তার পরিবারে বিচার দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮/০১/২০২০খ্রিঃ তারিখ সকাল বেলা তার পরিচিত সিএনজি চালক নুর আলম ও তার বন্ধু হৃদয় কে নিয়ে জেরিন আক্তারকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় রিচি স্কুলের কিছু দূরে সামনে চলন্ত গাড়ী থেকে ধস্তাধস্তি অথবা কোন ভাবে ধাক্কার কারনে সে পড়ে গিয়ে গুরুত্বর আহত হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ঘটনার আগে ও পরে তার সহযোগী সিএনজি চালক নুর আলম এর সাথে বারবার যোগাযোগ হয়েছে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম এর নেতৃত্বে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলী ও অন্যান্য অফিসার ফোর্সের সমন্বয়ে অভিযানিক টিম তৈরি করে গত ২০/০১/২০২০ খ্রিঃ তারিখ রাত ১১.৪৫ ঘটিকার সময়।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ