সাভারে নকল সেমাই তৈরীর কারখানায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

তপু ঘোষাল, সাভার উপজেলা:

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুড় ও সেমাই তৈরি করে বাজারে বিক্রি করার অভিযোগে রাজধানীর সন্নিকটে সাভার ও আশুলিয়ায় দুটি কারখানাকে নয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সাভারের নামা বাজার এলাকায় রুপা এন্টারপ্রাইজ ও আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার বেক টাইম কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যার ৪ এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমান।

র‌্যাব ৪ জানায় দীর্ঘ দিন ধরে সাভারের নামা বাজার এলাকায় রুপা এন্টারপ্রাইজের মালিক গৌতম সাহা অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে চিনি ও ফিটকারি দিয়ে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে আসছিলো। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই গুড় কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে এর মালিক গৌতম সাহাকে নগদ চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই সাথে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমান ভেজাল গুড় জব্দ করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। ভেজাল গুড় তৈরি অভিযোগে কারখানার মালিক গৌতম সাহা র‌্যাবের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন আমি আর গুড় তৈরি করবো না।

অন্যদিকে একই সময়ে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অস্বাস্থকর ও নোংরা পরিবেশে দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে এলুমিনিয়াম সালফেট ও ক্ষতিকর কাপড়ের রঙ দিয়ে সেমাই, বিস্কুট কেকসহ নানা খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করে আসছিলো বেক টাইম কারখানার মালিক আলমগীর হোসেন। পরে সেগুলো খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করেন আজ। এসময় কারখানাটির মালিক আলমগীর হোসেনকে নানা অভিযোগে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন ও সেই সাথে কারখানা থেকে নানা ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল জব্দ করেন র‌্যাব। সেই সাথে কারখানা দুটিতে দেখা গেল শিশু শ্রম।

করোনাভাইরাসের কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই সেমাই ও গুড় তৈরি করে আসছিলো। এছাড়া কারখানা দুটিতে গুড় ও সেমাই তৈরির সময় দেখা গেলো ইদুর ও টিকটিকির দৌড়াদৌড়ি এসব খাবারের উপর দিয়ে।

র‌্যাব ৪ এর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমান বলেন,এসব ক্ষতিকর খাবার খেয়ে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সেই মারা যাচ্ছে। অভিযানে এসময় র‌্যাব ৪ এর সিনিয়র এএসপি উনু মংসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ