সরকারি কর্মকর্তা জমিদারি স্টাইলে চলাফেরা; বিভিন্ন অভিযোগে চলছে তদন্ত

আলমগীর সরকার, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ সদরের খাগডহর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) খাদ্য গুদামে সাবেক সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী বর্তমানে ফুলপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ওসি- এলএসডি শাহ মো: মাজহারুল ইসলাম ওরফে কামালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত বার বার হলেও অদৃশ্য কারণে তা আর উদঘাটন হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, গত বোরো-২০১৯ মৌসুমে ধান ক্রয়ে মিলন,এনামুল ও জুয়েল,জাগ্রত,ওসমান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একই বছরে ৩ টি বরাদ্দের মাধ্যমে(৬৪৫+১০৭৬+সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত+৫০০)=২২২১ মে.টন ধান অবৈধভাবে ক্রয় করে। আর এই গুদাম কর্মকর্তা শাহ্ মাজহারুল ইসলাম কামালের দুর্নীতির কারণে ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো: জহিরুল ইসলাম খাদ্য মন্ত্রী,খাদ্য সচিব,খাদ্য অধিদপ্তরের বরাবর ২সেপ্টেম্বর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেন।

আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে খাদ্য সচিব তদন্তের চিঠি পাঠায় ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো: জাহাঙ্গীর আলমের কাছে। অপরদিকে এডিসি জেনারেল গত ২১ নভেম্বর তার নিজ দপ্তরে বিকাল ৩ টায় তদন্তের আহ্বান করেন। যেখানে ফুলপুর থেকে শতাধিক বিক্ষুব্ধ কৃষক কামালের দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন এবং সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানান। এরপর সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো তদন্ত করতে যান এডিসি জেনারেল ও ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যার তদন্ত এখনো অজানায় রয়ে গেছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারী একই তদন্তের জন্য খাদ্য সচিব দায়িত্ব দেন নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুনকে।তিনি ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে বসে তদন্ত করেন,যেখানে কৃষক নয় ছিল ফরিয়া ও মিলাররা,যার ফলে কৃষকরা কামালের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ধাওয়া দেয়,আর কামাল পালিয়ে আসে। দ্বিতীয় বারের মতো তদন্ত হয় নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে,যার তদন্ত এখনো রহস্যের ভেতরেই রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মিলন,এনামুল ও জুয়েল,জাগ্রত,ওসমান সিন্ডিকেট কৃষি কার্ড কিনে রাতের বেলায় বিল বই লিখে পরে ব্যাংক ম্যানেজারকে পারসেন্টিজ দিয়ে ভুয়া একাউন্ট খুলে ধানের বিল উঠিয়ে নেয়। শেষের দিকে ওসিএলএসডি ও তার সিন্ডিকেট সাতশ টন সমন্বয়ের ধান বিসমিল­াহ, রাবেয়া,সরকার, শ্রীমা এই সকল বন্ধ হাস্কিং রাইস মিলের নামে ওসিএলএসডি নিজে টাকা দিয়ে ব্যাংক ড্রাফট করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাগজে কলমে ধান ক্রয় দেখিয়ে এবং ক্রাসিং দেখিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ।
সূত্র জানায়, এছাড়া প্রতিটি খামালের ভেতর এক কেজি করে চাল কম নিয়ে ঐ সমপরিমান টাকা ওসি, এলএসডি মিলারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।
খাদ্য গুদামের ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী কিভাবে এতোটা দুর্নীতি করে ক্ষমতাধর হলেন তা-ই এখন কৃষক সাধারণের বড় প্রশ্ন।
গতকাল শনিবারও ফুলপুর খাদ্য গুদাম ও বন্ধ মিলের বিষয়ে তদন্তে আসেন খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-সচিব(প্রশাসন-২) শেখ নুরুল আলম।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ