শেখ বোরহানুদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ পরিচালনা পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন

 

স্টাফ রিপোর্টার :

শেখ বোরহানুদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ২৬ অক্টোবর সকালে কলেজ মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করে শেখ বোরহানুদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ পরিচালনা পরিষদ।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ সভাপতিকে না জানিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেক কর্ম পরিচালনা করে থাকেন। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ অনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগের নামে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে তা সভাপতিকে না জানিয়ে শিক্ষকদেরকে নিয়ে ভাগাভাগি করেন।
কলেজে বর্তমান উদ্ভট পরিস্থিতি নিয়ে গত ২৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাথে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান।
উক্ত সভায় কলেজের বর্তমান পরিস্থিতির উপর বিস্তারিত আলোচনা ও সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, কলেজের বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব কিভাবে হ’ল? কে বা কারা এ জন্য দায়ী ? এ সমস্ত বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি অডিট অধিদপ্তর-এই ত্রি-পক্ষের সমন্বয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
অনতিবিলম্বে এই ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য কলেজের নামে কেরানীগঞ্জের জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ জমিতে কোন প্রকার সমস্যা না থাকলেও বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে তদন্ত চলছে তখনই কলেজের কর্মকান্ড নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো দুরবিসন্ধি বলেই মনে করছি।
তিনি বলেন, কলেজের নিজস্ব অবস্থানের জায়গায় একটি সম্মানজনক সমাধান লক্ষে মহামান্য আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। একই শর্তানুযায়ী পাশ্বের জমিও ২৩ কাঠা জমি কলেজ প্রায় ১২ কোটি টাকার পাওয়ার প্রচেষ্টাও সন্তোষজনক ভাবে এগিয়ে চলছিল। কিন্তু মাস তিনেক পূর্বে চেয়ারম্যানের নামে দেখা করার অনুমতি নিয়ে (যা চেয়ারম্যান জানেন না) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে অধ্যক্ষ সহ কয়েক জন ব্যক্তি দেখা করে জমি দখল বুঝিয়ে দিতে সাহায্য চাওয়া হয় কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় ঘটনা শুনে কোনরূপ পদক্ষেপ নেয়নি।
অত্র কলেজের অধ্যাপক গফ্ফার সাহেবের নেতৃত্বে পাশের জমির মালিক ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ ঐ জমি সংক্রান্ত কমিটি নিয়ে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় অফিসে আমার সাথে সভা করে এবং ঐ সভায় জানতে পারি যে, মালিক প্রায় তিন মাস পূর্বে ঐ জমিতে বায়না করতে অধ্যক্ষকে অগ্রীম ২০-৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে বায়না করার প্রস্তাব দেন। অথচ অধ্যক্ষ জিবি’র সভায় জানিয়েছে যে মালিক ২ কোটি টাকা অগ্রীম চাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতিকালের ঘটনাবলীতে উক্ত ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখের সভায় ঐ জমির বর্তমান মূল্য পূর্বের ওয়াদা থেকে দেড় গুনের বেশি দাবী করছে। অধক্ষের ইচ্ছাকৃত অবহেলায় কলেজের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি, নিজ বাড়িতে থেকেও ৪৫ হাজার টাকা ভাড়া হিসেবে গ্রহণ, একটি গাড়ির জন্য ২ জন ড্রাইবার ও মাসিক ৩০ হাজার টাকার তেল বাবদ গ্রহণ যা অডিটকে মাসিকের পরিবর্তে বাৎসরিক ৩০ হাজার হিসেবে গ্রহণের তথ্য প্রদান করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অত্র কলেজের জিবির সভাপতির দায়িত্বের পর যে কোন কাজে শতকরা হার রীতি কমেছে। হয়ত কেরানীগঞ্জের জমি কেনা থেকে এ সুবিধা ভোগীরা বঞ্চিত। তা ছাড়া বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে পাওয়া আট কোটি টাকা, কলেজের বর্তমান জায়গা বা পার্শ্বের জায়গা ক্রয়ও ঐ শতকরা হার গ্রহণকারীরা বঞ্চিত হবে। এ লক্ষে তাই অসাধু চক্রের এ প্রয়াস বলে মনে করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত কলেজের অধ্যক্ষ সভাপতির লিখিত বক্তব্যের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ