ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় স্কুলছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

 

হোসাইন আহাম্মেদ সুলভ, ময়মনসিংহ : 

তালাবদ্ধ ঘরে সিলিং ফ্যানে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ময়মনসিংহ শহরের আরকে সরকারি হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী উমামা তাসনিম।

সে ওই স্কুলেরই সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম রুবেলের মেয়ে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে যমুনাসিংয়ের মোড় এলাকায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, মুক্তাগাছা আরকে সরকারি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম রুবেল প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। উমামা প্রথম স্ত্রীর একমাত্র মেয়ে। তার পরের স্ত্রীর একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
শনিবার দুপুরে রুবেল তার স্ত্রী দিলরুবাকে নিয়ে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাওয়ার সময় উমামা ও ছেলে দিশাকে বাসায় রেখে বাহির থেকে তালা দিয়ে যান। বিকেলে তারা বাসায় ফিরে দেখেন উমামার গলায় ওড়না পেঁচানো। তার দেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে তাকে মুক্তাগাছা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসী ও মেয়ের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার সৎ মা দিলরুবা খাতুন উমামাকে নানা কারণে নির্যাতন করতেন। বিভিন্ন সময় তার কান্নার আওয়াজ শুনতে পেত পাশের বাড়ির লোকজন। তাদের ধারণা তার সৎ মায়ের নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তাসনিমের বাবা রুবেল বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে বিভিন্ন সময় শাসন করা হতো। একজন বাবা-মা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এটা করতেই পারে। সামান্য এ কারণে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে স্বপ্নেও এটা ভাবিনি।
ঘটনা স্বীকার করে থানার ওসি আলী মাহমুদ বলেন, মেয়েটি স্কুলের দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর সাথে ফোনে কথা বলায় তার সৎ মা মেয়েটিকে কয়েকদিন ধরে মারধর করে আসছে। আজও তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এমনকি তার লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়। এ কারণেই হয়তো মেয়েটি আত্মহত্যা করতে পারে। এছাড়া হত্যারও কিছু আলামত রয়েছে তার শরীরে। তার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লাশের ময়না তদন্তে রিপোর্টের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ