মিল্ক ভিটার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বাকি ১৩ কোম্পানির দুধ উৎপাদন বন্ধ থাকবে

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার দুধ উৎপাদনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে এ আদেশ দেয়া হয়। আর মিল্ক ভিটার এমডির দাবি, তাদের দুধে ক্ষতিকর উপাদান নেই।

সীসা ও এন্টিবায়োটিক রয়েছে এমন প্রতিবেদন পাওয়ার পর, রবিবার স্বপ্রণোদিত হয়ে পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতে পাঁচ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।

২৯ জুলাই (সোমবার) সকালে সেই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রায়ত্ত দুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা। শুনানি শেষে বিকেলে চেম্বার আদালত মিল্ক ভিটার পাস্তুরিত দুধ উৎপাদনে বাঁধা তুলে নেন। তবে বন্ধ থাকছে বাকি ১৩ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন।

সোমবার চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আপিল আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে মিল্ক ভিটার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাকি ১৩টি পাস্তুরিত দুধ কোম্পানির উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ থাকবে।

এর আগে গত ২৮ জুলাই বিএসটিআই অনুমোদিত ১৪ টি পাস্তুরিত দুধ কোম্পানীর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এসব কোম্পানির দুধ বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দাবি, মিল্ক ভিটায় ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই। তারপরও আদেশের পর দুধ উৎপাদন বন্ধ রেখেছিলেন।

নিষেধাজ্ঞার পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকানে দেখা মেলে প্যাকেটজাত পাস্তুরিত দুধ। বিক্রেতারা জানালেন, একদিন আগে এসব তুলেছেন তারা। নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও খুব একটা ধারণা নেই তাদের।

যেসব কোম্পানিকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট ওই আদেশ দিয়েছেন সেগুলো হলো- আফতাব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্ট লিমিটেড (আফতাব মিল্ক), আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড (ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক), আমেরিকান ডেইরি লিমিটেড, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা), বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্ক অ্যান্ড ফুডস লিমিটেড (ডেইরি ফ্রেশ), ব্রাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্ট (আড়ং মিল্ক), ডেনিশ ডেইরি ফার্ম লিমিটেড, ইছামতি ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস (পিওরা), ইগলু ডেইরি লিমিটেড (ইগলু), প্রাণ ডেইরি লিমিটেড (প্রাণ মিল্ক), উত্তরবঙ্গ ডেইরি লিমিটেড, শিলাইদহ ডেইরি (আল্ট্রা মিল্ক), পূর্ববাংলা ডেইরি ফুড ইন্ড্রাস্ট্রিজ এবং তানিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস।

জাতীয় ডেইরি উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ব্র্যাক ডেইরির পরিচালক বলছেন, বিএসটিআইএর মানদণ্ড মেনেই দুধ বাজারজাত করেছেন তারা। তার দাবি, আদালতের এমন নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক খামারিরা।

এর আগে সকালে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ জানান, পাস্তুরিত দুধ বন্ধের সুযোগে বিদেশি গুঁড়ো দুধ যাতে বাজার দখল করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ