মাদারীপুরে সিন্ডিকেটের কবলে জীবানুনাশক ঔষধ

জাহিদ হাসান, মাদারীপুর:

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মাদারীপুরে জীবানুনাশক ঔষধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জীবানুনাশক ঔষধের মধ্যে হেক্সিসল, স্যাভলন, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডগ্লভস হ্যান্ডওয়াসসহ অন্যান্য পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের নিরাময় হাসপাতাল সংলগ্ন সিন্হা ফার্মেসীর স্বত্ত্বাধিকারী মো: আলী আজম সরদার জানান, ‘বাজারে এসব ঔষধের সরবরাহ না থাকায় বিক্রয় করতে পারছি না’, কাষ্টমার এসে ফিরে যাচ্ছে’।

মাদারীপুরের আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা দোলা বিশ^াস বলেন, স্যাভলন কিনতে গিয়েছিলাম, যা পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু ঔষদের দোকানে গিয়ে শুনি স্যাভলন নেই। তাই ফিরে এসেছি। এদিকে সবসময় করোনা আতঙ্কে আছি। শহরের কলেজ রোড এলাকার গৃহিনী চায়না শেখ বলেন, আমার বাসায় ছোট্ট ছেলে আছে। ছেলের গোসল করাতে ও বাসাটাকে জীবানুমুক্ত রাখার জন্য জীবানুনাশক মেডিসিন কিনতে পারছি না। মাদারীপুরের কোন দোকানে জীবানুনাশক এসব মেডিসিন নেই।
সদর হাসপাতাল এলাকার আরোগ্যালয় ফার্মেসীর স্বত্ত্বাধিকারী মতিউর রহমান বলেন, ঔষধ কোম্পানী যেভাবে চাহিদা আছে, সেই অনুযায়ী ঔষধ তৈরী করেছে না। আমরা নিজেরা স্যাভলন তৈরী করে ব্যবহার করছি।
এদিকে মাদারীপুর কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিব হাসান বলেন, আমরা মাদারীপুরের ঔষধ ব্যবসায়ীরা মূলত ঢাকার মিডফোর্ট থেকে এসব মেডিসিন, হ্যান্ডগ্লাভসসহ অন্যান্য উপকরণ এনে থাকি। কিন্তু ওখানে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মনে করি, এখানে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। বাংলাদেশে অল্প কিছু মানুষ এইসব মেডিসিন ও হ্যান্ডগ্লাভসের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সরকারের এই দিকে নজর দেওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।
মাদারীপুর কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সভাপতি তাপস কুমার দাস বলেন, মাদারীপুরে এসব পণ্যের যে পরিমান চাহিদা তার ১০০ ভাগের ৫ ভাগ পাচ্ছি না। কোন কোম্পানীর সরবরাহ নাই। হেক্সিসল, জীবানুনাশক লিকুইড এসব পণ্যের উপর যেহেতু সরকার শুল্কমুক্ত করেছে, তাই প্রতিটি কোম্পানীর উচিত সেই ভাবে তৈরী করা। এখন সাপ্লাই পেলেই আমরা জনগণকে সরবরাহ করতে পারবো।
মাদারীপুর ঔষধ প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক বীথি রানী সরকার জানিয়েছেন, হঠাৎ করে এসব জীবানুনাশক মেডিসিনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাপ্ল্ইা দিতে সমস্যা হচ্ছে। মাদারীপুরে দুটি কোম্পানির ডিপো আছে। আমরা তাদের সাথে বসে দ্রুত এই সমস্যা যাতে কাটিয়ে ওঠা যায় আশা করছি, এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

 

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ