মাদারীপুরে নারীসহ তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা

 

জাহিদ হাসান,মাদারীপুর:
মাদারীপুরে সাবরীন জেরিনস নামে এক নারী সাংবাদিকসহ তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে এলজিইডি অফিসের কর্মচারী ও ঠিকাদাররা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় মাদারীপুর এলজিইডি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
তাদের একজন দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার মাদারীপুর প্রতিনিধি। আরএকজন ডেইলি মনিং অবজার্ভার পত্রিকার মাদারীপুর প্রতিনিধি ও আরএকজন দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার মাদারীপুর প্রতিনিধি। তাদের দুজন চিকিৎসায় আছেন এবং নারী সাংবাদিক গুরুত্বর হওয়ায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবং মঙ্গলাবার রাত ১২টার দিকে সদর থানা একটি অভিযোগ করেছেন নারী সাংবাদিকের স্বামী সাংবাদিক আব্দুল আল মামুন।

হামলার শিকার সাবরীন জেরিনের স্বামী আবদুল্লাহ আল মামুন দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার মাদারীপুর প্রতিনিধি। তিনি জানান, পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য মাদারীপুর এলজিইডি অফিসের ইউডি নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমার স্ত্রীকে ফোন করে অফিসে ডাকেন। অফিসে যাওয়ার পর তিনি বিজ্ঞাপন না দিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যবহার ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। স্ত্রীর ফোন পেয়ে আমি এলজিইডি অফিসে গেলে নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন ঠিকাদার আমাকে মারপিট করে। এসময় আমার স্ত্রীর তলপেটে ৭/৮টি লাথি, কিলঘুষি, চড়থাপ্পড় ও চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে। বেধড়ক হামলায় আমার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়।
আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মারধরের সময় নাসির উদ্দীন বলেন ‘তুই কিসের সাংবাদিক তোদের মত কত সাংবাদিক আমি জীবনে মেরেছি। কেউ আমার কিছু করতে পারেনি। তুই যা পারিস তাই করিস’। এসময় আমাদের চিকৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আমাদের জীবন রক্ষা করে। এছাড়াও মাদারীপুরের সকল সাংবাদিকদের সহযোগীতায় সদর থানায় এ বিষয় একটি অভিযোগ করেছি।
অন্যদিকে জানা গেছে এলজিইডি ইউডি নাসির উদ্দিন একটি অভিযোগ করেছেন। আর এইনিয়ে ইউডির মিথ্যা অভিযোগের এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা। মাদারীপুরের সাংবাদিক সংগঠন মৈত্রী মিডিয়া সেন্টার প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন। এরপর মাদারীপুর প্রেসক্লাব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানা গেছে।

মাদারীপুর এলজিইডি ইউডি নাসির উদ্দিন জানান, আমি একটি অভিযোগ করেছি।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমি গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি দুই পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। এক নারী সাংবাদিক হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি দেখে আসছি। আমি বলবো যেহেতু দুইপক্ষ অভিযোগ দিয়েছে আমরা এটা তদন্ত করছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

মাদারীপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার বলেন, যে ঘটনা হয়েছে এটা অপ্রত্যাশিত তবে আমি মনে করি যা হয়েছে এই পযন্ত থাকা উচিত। আমাদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। দুপক্ষ বসে একটি সমাধান করা উচিত।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ