মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত হলো দেশের তৃতীয় ভাসমান সেতু

সেকেন্দার আলম শেখ, স্টাফ রিপোর্টার :

মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত হলো দেশের তৃতীয় ভাসমান সেতু। শনিবার(২৮-৩-২০) সন্ধায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় টগরবন্ধ ইউনিয়নের টিটায় সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
বহু প্রত্যাশিত ভাসমান সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়ার খবরে এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।  জনসাধারন এ নদীতে খেয়া ঘাটে নৌকা দিয়ে অনেক কষ্টে নদী পারাপার করতো। এই আজন্ম দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে ওই এলাকার ৭০ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করে নির্মাণ করছে ভাসমান সেতুটি। প্লাস্টিকের ব্যারেল আর স্টিলের পাত দিয়ে ভাসমান এ সেতুটি তৈরি করা হয়। ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ সেতুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮৫২টি প্লাস্টিকের ড্রাম ও ৬০ টন লোহা। পরে দুই পাড়ে কংক্রিটের সংযোগ সেতুর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে ভাসমান কাঠামোটিকে।
সেতু নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা টগরবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমাম হাচান বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভাসমান সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে গণজমায়েত নিষিদ্ধ। তাই জনসাধারণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আর অপেক্ষা না করে আজ থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।’
টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, টিটা-পানাইল, রায়ের পানাইল, শিকরপুর, ইকড়াইল ও কুমুরতিয়া গ্রামের চারপাশে মধুমতি নদী বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রামগুলো মূল ভূখন্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ওই ছয় গ্রামে প্রায় ১২ হাজার লোকের বসবাস। বংশ পরম্পরায় তাদের বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার হতে হতো। অনেক সময় বৈরি আবহাওয়ায় রুদ্ধ হয়ে যায় যাতায়াতের এ মাধ্যমও। এতে অনেক সময় মুমূর্ষ রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ