ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন বরিস জনসন

দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের ভোটযুদ্ধ শেষে কনজারভেটিভ দলীয় সদস্যদের ভোটে দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হলেন বরিস জনসন। তার ভোট সংখ্যা ৯২ হাজার ১৫৩। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জেরেমি হান্ট পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৬ ভোট। পার্টির সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশের সমর্থন পেয়ে সাড়ে ছয় কোটি ব্রিটেনবাসীর প্রধানমন্ত্রী হলেন লন্ডনের সাবেক এই মেয়র।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি মাত্র ৩ মাস সময় পাবেন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পরের দিনই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ৪০ দিনের গ্রীষ্মকালীন বন্ধ থাকবে। কাটায় কাটায় সময় গুণে দলীয় কোন্দল নিরসন ও ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বরিসের জন্য।

দলীয় এমপি ও কর্মীদের দফায় দফায় ভোটযুদ্ধ শেষে বিজয়ের হাসি হাসলেন বরিস জনসন। শুরু থেকেই জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে শীর্ষে ছিলেন তিনি। তবে, কনজারভেটিভ দলীয় প্রভাবশালী শীর্ষ কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগ ও ব্রেক্সিট সমীকরণ ক্রমশই জটিল করে তুলেছে বরিসের নতুন পথচলার ভাগ্য। শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ক্ষমতায় পিছলে যাওয়ার শঙ্কাও আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ ৩১ অক্টোবরের আগে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করা। আমার মনে হয় সেটা খুবই কঠিন।

চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে বিগত সময়ে ব্রিটিশ এমপিরা ভোট দেওয়ায় বড়সড় বিপাকের মুখোমুখি হতে হবে বরিসকে। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের আগেই হয়তো মধ্যবর্তী নির্বাচন কিংবা দ্বিতীয় গণভোটের দিকে এগুচ্ছে ব্রিটেন বলে মনে করছেন কনজারভেটিভ দলের এই সদস্য। কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য আহমেদ হোসাইন বলেন, ‘পার্টির মধ্যে যদি ৫ জন সদস্য যদি না চায় তবে ব্রেক্সিট করা সম্ভব হবে না। ‘

বুধবার দুপুরে হাউস অব কমন্সে শেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়ার পর রানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। একইদিন বরিস জনসন নতুন সরকার গঠনের অনুমোদনের অনুমতির জন্য যাবেন রানীর কাছে। সেখান থেকে ফিরে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৩ সেপ্টম্বর পর্যন্ত চল্লিশ দিন ছুটি থাকবে বৃটিশ পার্লামেন্ট।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ