বেসিক ব্যাংকের টাকা যারা ফেরত দিচ্ছেনা, তাদের নিস্তার নেই: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

বিশেষ অডিট হচ্ছে পূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ব মালিকাধীন বেসিক ব্যাংকে। ১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)  ব্যাংকটি পরিদর্শন করতে এসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বেনামে ঋণ দেয়ার সাথে যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা, কোনো ব্যাংক পরিদর্শনে এলেন অর্থমন্ত্রী। নামে বেনামে ঋণ দিয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় থাকা বেসিক ব্যাংকেই প্রথম পা দিলেন তিনি।

নাজুক অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে ব্যাংকটির মিলনায়তনে আলোচনা করেন সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন পরিচালক। তাদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা ঠিকমতো কাজ করছেন না। ঋণের টাকা উদ্ধারে আন্তরিক নয় খোদ ব্যাংকের কর্মকর্তারাই।

ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অর্থমন্ত্রীর কাছে টাকা চেয়েছেন এর চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ।

তিনি বলেন, একে বাঁচাতে আরও টাকা দরকার। এই মুহূর্তে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। টাকার অংকে যা সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

সবার কথা শুনে অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে যারা ফেরত দিচ্ছেনা, তাদের নিস্তার নেই। তাদের পেছনে আমরা এজেন্সির লোক নিয়োগ দেব। দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকুক তাদের বের করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা ঋণ আদায় সহজ করে দেব কিন্তু ঋণ মাফ করতে পারব না।

তিনি আরও জানান, বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে বেসকি ব্যাংক নিয়ে। বেনামে ঋণ বিতরণে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত দুই বছর বেসিক ব্যাংকের যেসব শাখা লোকসান দিয়েছে এ বছরও যদি তারা লোকসান দেয়, তাহলে ওইসব শাখা বন্ধ করে দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট দিতে চাইলে, তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন ক্রেস্ট নেব না। এক বছরে যদি বেসিক ব্যাংক ভালো করতে পারে তাহলে ক্রেস্ট নেব। আপনারা ভালো করেন আগামীতে আপনাদের সঙ্গে আমরা পিকনিক করব।’

উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ১২ সালে বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে বেনামে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে ৫৬টি মামলায় দেড়শ জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক। এরমধ্যে ২৬ জনই ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ