বিমানের ঢাকা-লন্ডন রুটে বাড়ছে লোকসান-ভোগান্তি

বিমানের লাভজনক রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা-লন্ডন রুট। এই রুটের অধিকাংশই ব্রিটেন প্রবাসী, যাদের গন্তব্য সিলেট। ব্রিটেন প্রবাসীদের অনেকদিনের দাবি ছিল সপ্তাহের প্রতিদিনই ফ্লাইট পরিচালনা করার, তবে তা না করে হজ ফ্লাইটের কারণে বোয়িং ট্রিপল সেভেনের থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ। যার ফলে ভোগান্তি বেড়েছে অনেকগুণ, বাড়ছে লোকসানের মাত্রা।

একমাত্র বিমানই লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেটে অবতরণ করে তাই ঈদসহ বিভিন্ন ছুটিকালীন ব্রিটেন প্রবাসীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে বিমান। চাহিদার কথা চিন্তা করে গেলো ডিসেম্বরে এই রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দুই মাসের জন্য করা হয়েছিলো ছয়টি। এবারের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও ঈদের সময়েও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর দাবি ছিল প্রবাসীদের। তা তো হয়নি উল্টো হজ ফ্লাইটের কারণ দেখিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট বিমানে এই রুটের ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে, গত ৫ জুলাই থেকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬২১৬ জন যাত্রী কম পরিবহন করবে বিমান। আর এই সময়কালীন স্থান সংকুলান না হওয়ায় কার্গো কম যাচ্ছে দুশো বায়ান্ন টন, যাতে বিমান হারাচ্ছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকার রাজস্ব।

হিলসাইড ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন খান বলেন, হঠাৎ করে ফ্রিকোয়েন্সি ছোট হয়ে যাওয়ার পর তখন সার্ভিস মডার্ন হলেও মাসিক একশ টন মাল আমরা বিমানকে কম দিতে পারছি। সরকার এর রাজস্ব হারাচ্ছে।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করার শিডিউল ঘোষণা করেছিল বিমান। এরপর আধুনিক সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে টিকেট বিক্রি করে দুই মাসের মধ্যেই তা থেকে সরে আসতে হয় বিমান বাংলাদেশকে। বিমান কর্তৃপক্ষের নানা সমন্বয়হীনতার কারণে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে।

একসময়ে ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুট চালু থাকলেও তা বন্ধ আছে। ম্যানচেস্টার রুটে ২০১১ সালের দোসরা নভেম্বর বিমানের প্রথম ফ্লাইট চালু হয়েছিল। লাভজনক থাকা সত্ত্বেও সেটি বছর না যেতেই ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধ করে দেয় বিমান।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ