বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি

 

রাবি প্রতিনিধি :

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) কর্মরত সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে কর্মরত সাংবাদিকরা বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।

দাবিগুলো হলো- সাংবাদিক শামস জেবিনসহ অন্য সংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিচার করা, বশেমুরবিপ্রবির ঘটনায় জড়িত প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসগুলোতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা ও সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মর্তুজা নুর বলেন, ‘বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য বর্তমানে যা করেছেন তা দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের জন্য কলঙ্ক। তিনি এই কলঙ্কের জনক বলে মনে করছি। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আছে। উপাচার্য হওয়ার পূর্বে যখন শিক্ষক ছিলেন তখন তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

এসময় মর্তুজা নুর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বশেমুরবিপ্রবি’র দিকে নজর দিন, যিনি বর্তমানে সেখানে উপাচার্য পদে আছেন তার কর্মকা-গুলো খতিয়ে দেখুন।

প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক রায়হান বাপ্পী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদে যে যখন উপবিষ্ট হন তখন সেজে যান ধীরাজ। তখন আর ধার ধারেন না কোনো নিয়ম নীতি, ধার ধারেন না কোনো আইন কানুন। যখন তারা এই আইন কানুন গুলো মানেন না তখন আমরা একজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি একজন সচেতন নাগরিক এবং গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে তা ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। তখন তাদের স্বার্থে আঘাত লাগে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য হয়ে তিনি ন্যূণতম শিষ্টাচারের পরিচয় দেখান নি। তিনি এখনও কিভাবে উপাচার্য থাকেন?’

এসময় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সুজন আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্ত জ্ঞান চর্চার জায়গা, সেখানে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে। যেখানে বাংলাদেশের সংবিধানও বলে প্রত্যেক নাগরিক তার মুক্তচিন্তা প্রকাশ করতে পারবে। সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি বশেমুরবিপ্রবিতে তার পুরোটাই উল্টো। একজন শিক্ষার্থীর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বহিষ্কার করেছে এটা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে পুরোটাই একটা হাস্যকর বিষয়। পরে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তারা বহিষ্কার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।’

রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফরিদের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য দেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী ইউনুস হৃদয়, সহ-সভাপতি ইয়াজিম পলাশ, কোষাধ্যক্ষ আরাফাত রাহমান, রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জয়, কোষাধ্যক্ষ সালমান শাকিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাজন, রাবি সংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ শাহিন আলম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সংবাদিকসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকরা বশেমুরবিপ্রবি‘র উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

বশেমুরবিপ্রবির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কী হওয়া উচিত’ এমন শিরোনামে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে দেয়। এই স্ট্যাটাসের অভিযোগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় ‘বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন’ বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবিতে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দিলে জিনিয়ার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে এ ঘটনায় জিনিয়াকে সুকৌশলে দায়ী করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে সারাদেশে মানববন্ধনের ডাক দেয় ফেডারেশন।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ