প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

সৌদি আরবে কর্মরত নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যা বন্ধ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। শুক্রবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সৌদি আরবে অমানুষিক নির্যাতনে নাজমা বেগম নামে মানিকগঞ্জের এক নারী শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন। মারা যাওয়ার এক মাস ২৪ দিন পর গত ২৪ অক্টোবর নাজমা বেগমের মৃতদেহ দেশে আনা হয়েছে। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১০ মাস আগে মো. সিদ্দিক নামে এক দালালের মাধ্যমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে তাকে একটি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বাড়ির মালিকের ছেলে তাকে যৌন নির্যাতন করতো। কথা না শুনলে মারপিটও করা হতো। নির্যাতনের কথা জানিয়ে সৌদি আরবের বাংলাদেশি দূতাবাসে ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে কেউ সহযোগিতা করেনি বরং উল্টো গালিগালাজ করেছে। শুধু নাজমা নয়, এভাবে গত ১০ মাসে সৌদিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লাশ হয়ে ফিরেছেন ১১৯ জন নারী কর্মী।

বক্তারা আরও বলেন, নির্যাতনের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন সৌদি আরবে গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। এরপর থেকে গত জুলাই মাস পর্যন্ত তিন লাখ বাংলাদেশি নারী কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। বিদেশে কাজ করতে গিয়ে তারা লাশ হয়ে ফিরছেন। প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা ও প্রবাসে দূতাবাসগুলো যদি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতো, তাহলে গৃহ-শ্রমিকদের লাশ হয়ে ফিরতে হতো না।

সমাবেশ থেকে নাজমা হত্যার বিচারের দাবি জানানো হয়। তার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারকে অবিলম্বে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো, সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, নারী নেত্রী রুখসানা আফরোজ আশা, প্রীতিলতা, মুক্তা বাড়ৈ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ