নারীর মর্যাদা রক্ষায় নুসরাতের আত্মত্যাগ তাকে অমরত্ব দিয়েছে: আদালত

নুসরাত হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নুসরাতের বাবা। সেইসাথে তাদের নিরাপত্তা দেয়ারও দাবী জানিয়েছেন তিনি।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে আজ বৃহস্পতিবার ২৪ অক্টোবর বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারক এই দিন ধার্য করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মহিউদ্দিন শাকিল এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমীন।

বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আজ বৃহস্পতিবার ২৪ অক্টোবর বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে রায় পড়া শুরু করেন। এসময় ১৬ আসামিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ২৪ অক্টোবর বেলা পৌনে ১১টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় এ মামলার ১৬ আসামিকে কারাগার থেকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার ১৬ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে, নুসরাতের পরিবার। তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, প্রত্যক্ষ সাক্ষী না থাকায় খালাস পাবেন সবাই।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। তার যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। সেই আক্রোশে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর, ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু হয় তার।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাইয়ের করা মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় পিবিআই। এরমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ১২ জন।

টানা ৬১ দিন রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তি তর্ক শেষ হয় গেল ৩০ সেপ্টেম্বর। আর রায়ের দিন ঠিক করা হয় ২৪ অক্টোবর।

 

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ