নাগরপুরে পাঁচতারা বালুচরে বরই চাষ করে লাভবান কৃষক।

মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, নাগরপুর (টাঙ্গাইল):

নাগরপুরে বালুচরে বরই চাষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে দিয়েছে কিছু পরিবার। এর সুফল ভোগ করছে এলাকাবাসীও। আপেলকুল, বাউকুলসহ দেশি প্রজাতি মিলে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার বরই উৎপাদন করেছেন উপজেলার পাঁচতারা গ্রামের চাষিরা। ফলে চরবাসীদের মাঝে বরই চাষে আগ্রহ বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধলেশ্বরী চরাঞ্চলের চলতি বছর প্রায় ১০ হেক্টর অনাবাদী জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বরই চাষ করেছে প্রান্তিক কৃষকরা। নাগরপুর উপজেলার চরাঞ্চলে মোট জমির পরিমাণ ২ হাজার ৪৩০ হেক্টর। এর মধ্যে চাষযোগ্য জমি প্রায় ১ হাজার হেক্টর। পতিত জমিতে এর আগে গম, ভুট্টা, তিল, তুলা, কালাইসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে লাভ বেশি না হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে এখানে বড়ই চাষের প্রচলন শুরু হয়েছে। পরিচর্যা আর সামান্য খরচ করেই লাখ লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পেরে কৃষকরা এখন মহাখুশি। উপজেলা জুড়ে বরই চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৭ হেক্টর জমিতে আপেলকুল এবং ৩ হেক্টর জমিতে বাউকুলসহ দেশীয় জাতের বরই চাষ করা হয়েছে। বরই চাষে কৃষক বেশি লাভবান হওয়ায় চরাঞ্চলে এ ব্যবসাকে ঘিরে অনেক মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার ধলেশ্বরী নদী তীর বর্তী ভাড়রা ইউনিয়নের পাঁচতারা গ্রামের বরই চাষি মো. নিমাই খান জানান, গত দশ বছর আগে তিনি ছয় একর বালু জমিতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে আপেলকুলের ৬০০ টি চারা রোপন করেন। গতবছর আরও ৫১ হাজার টাকা পরিচর্যা বাবদ খরচ করে বরই বিক্রি করেছেন প্রায় ৩ লাখ টাকার। ফলে এখন তিনি শুধু লাভের মুখ দেখছেন।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো.আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকের পাশে নতুন নতুন প্রযুক্তি আর চরাঞ্চলভিত্তিক ফসল নিয়ে এগিয়ে এলে নদীমাতৃক উপজেলার চরাঞ্চলের জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ