‘দিদি কে বলো ডট কম’ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

লোকসভা নির্বাচনে দলের প্রতি রাজ্যবাসীর আস্থা কমার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইঙ্গিত মিলেছিল বিজেপির উত্থানেরও। আগামী বছর রাজ্য জুড়ে দুই শতাধিক পৌরসভার নির্বাচন এবং এরপরের বছরই আসন রক্ষার লড়াই বিধানসভার ভোট। তাই জনসংযোগ বাড়াতে এবার নতুন পন্থা বেছে নিলেন তৃণমূল নেত্রী।

রাজ্যের মানুষের আরো কাছাকাছি পৌঁছাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল আগামী একশো দিন ১০ হাজার গ্রামের জনসংযোগ যাত্রা করবে। তৃণমূল কংগ্রেসের ১ হাজার নেতা-নেত্রী প্রত্যেক গ্রামের গিয়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা জনসংযোগই শুধু করবেন না, রাত্রী যাপন করে সেই গ্রামের পরিবেশের আঁচ নেবেন।

শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে তৈরি করা হয়েছে একটি ওয়েবসাইট। যার নাম দেওয়া হয়েছে “দিদি কে বলো ডট কম”।

খোলা হয়েছে ২৪ ঘন্টা সাত দিনের একটি হটলাইনও। এখানে শুধু দিদি তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেরপাধ্যায়কে নয় কেউ চাইলে তৃণমূলের সদস্যপদও নিতে পারবেন।

২৯ জুলাই (সোমবার) কলকাতার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জনসংযোগের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে সংযোগ করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মমতা বলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট ফোন নম্বর এবং একটি ডিজিটাল মাধ্যম এই দুটো মাধ্যমেও আমরা সংযোগ তৈরি করবো মানুষের সঙ্গে।’

তৃণমূল কংগ্রেস গরীব পার্টি বলে মন্তব্য করে তৃণমূলের নেত্রী বলেন, ‘অনেক গণমাধ্যমের খবর দেখলাম তৃণমূল কংগ্রেস পূর্ণসময়ের জন্য কর্মী নিয়োগ করবে। এটা ঠিক নয়। আমরা সেই রকম দল নই।’

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সরকার কিংবা সরকারি দলের সঙ্গে মানুষের সংযোগ বরাবরই ভালো  ছিলো, আছে কিন্তু এই নতুন প্রকল্পের মধ্যদিয়ে সেটা আরো বাড়বে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ফরমুলাকে কটাক্ষ করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল গুলো। বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেছেন, তৃণমূলের “দিদি কে বলো” এই ক্যাম্পেইন প্রমাণ করে এই দলের সঙ্গে মানুষর আর কোনও সম্পর্ক নেই।

কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, পুরোটাই তৃণমূলের নাটক।

লোকসভা নির্বাচনের ৪২ আসনের মধ্যে ২২ টি আসন পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সর্বশেষ ২০১৪ সালের তারা ৩২ আসন পেয়েছিল। অন্যদিকে ২০১৪ সালে বিজেপি মাত্র ২টি আসন পেয়ে ৫ বছর পর সর্বশেষ নির্বাচনের ১৮ আসনে নিজের জয় নিশ্চিত করে।

রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের জনপ্রিয়তার নিম্নগামী প্রবণতার টের পেয়ে ভারতের অন্যতম ‘রাজনৈতিক কৌশল বিক্রেতা’ বলে পরিচিত প্রশান্ত কিশোরকে নিযুক্ত করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশান্ত কিশোরের প্রথম ফরমূলা মেনেই তৃণমূল নেত্রী প্রকাশে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ঘুষের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্থানীয় ভাষায় যাকে কাটমানি বলা হয়। সেই ঘুষের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দেওয়ার পরই রাজ্য জুড়ে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও, তৃণমূল নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করে ঘুষের টাকা ফেরাতে দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে বিরোধীরা কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হাতে পেয়েছেন। যা তারা প্রয়োজন মতো ভালোভাবেই ব্যবহার করছেন এখন।

এবার তৃণমূলের নতুন ”দিদি কে বলো” প্রচারণার কৌশলকে নিয়েও যে বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একসঙ্গে মমতার দিকে রাজনৈতিক অস্ত্র ছুড়ে মারবে সেটা কিন্তু রাজনৈতিক মহল শতভাগই বিশ্বাস করছেন।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ