তিতাসের মৃত্যুর তদন্তে নড়াইলে দুই তদন্ত কমিটি

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি না ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা নড়াইলে এসেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আসেন।

এদিকে তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন করা হয়েছে। এতে অংশ নেন নড়াইলের কালিয়া সদরের শহীদ আবদুস সালাম ডিগ্রি কলেজ, কালিয়া সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কালিয়া পিএস পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে একই দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।

তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

তদন্ত বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির প্রধান সঞ্জয় কুমার বণিক বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে যাঁরা ছিলেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেব।’

এ দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটির প্রধান মো. রেজাউল আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ফেরিঘাটে বসে থাকায় আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার চার দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিতাসের মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। তিতাস ঘোষ কালিয়া শহরের মৃত তাপস ঘোষের ছেলে। তিতাস কালিয়া সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। গত ২৪ জুলাই মোটরসাইকেলে বরযাত্রী হয়ে যাওয়ার সময় নড়াইল শহরের পাশে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল তিতাস।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ