টুঙ্গিপাড়ার জনগনকে সুস্থ রাখতে পারলেই আমাদের সার্থকতা: এসিল্যান্ড

রকিবুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া:

করোনাভাইরাসের প্রার্দূভাবের কাছে গোটা বিশ্ব যেন হার মেনে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যু বরন করছে। যতটা নিজেদের ঘর বন্ধি রাখা যায় এতে কিছুটা হলেও সংক্রামিত কম হবে এমটাই ধারনা সবার। তাই দেশের মানুষকে ঘর বন্ধি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন সরকার। আর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় প্রশাসন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এর ব্যাতিক্রম না।
করোনা মোকাবেলায় জনসমাগম ঠেকাতে ও জনগনকে ঘরে রাখতে দিন রাত কাজ করে চলেছেন টুঙ্গিপাড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামল চন্দ্র বসাক।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধ করতে জনগনকে ঘরে রাখতে ও জনসমাগম ঠেকাতে সকাল,বিকাল ও রাতে এসিল্যান্ড শ্যামল চন্দ্র সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে ছুটছেন উপজেলার প্রতিটি হাট বাজারে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি জায়গায় বিচরন করছেন তিনি। সরকারী নির্দেশ অমান্য ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে প্রতিদিন করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা। চলার পথে মোটর সাইকেল আরোহী দেখলে করছে জিজ্ঞাসাবাদ। লকডাউন থাকা অবস্থায় অন্য এলাকার কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়েও করছেন তদারকি। সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করে দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার ভিতরের রাখতে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সহ চাউলের মূল্য যাচাই করছেন এসিল্যান্ড। যেখানেই যাচ্ছেন হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে সচেতন করছেন জনগনকে। বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যাচ্ছেন অসহায়দের খাদ্য সামগ্রী দিতে। কোন সমস্যার কথা কেউ ফোন করে জানালেই ছুটছেন সেখানে।

তাই প্রশাসনের এমন তৎপরতায় এসিল্যান্ড শ্যামল চন্দ্র প্রশংসিত হচ্ছেন সর্বমহলে। জনসচেতনতায় দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান শেখ বলেন, করোনা মোকাবেলায় এসিল্যান্ড খুবই ভালো কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন হাট বাজারে গিয়ে সচেতন করছে জনগনকে। অসাধু ব্যবসায়ী ও সরকারি আদেশ অমান্য কারিদের করছেন জরিমানা। করোনা মোকাবেলায় তার ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

টুঙ্গিপাড়ার সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট শ্যামল চন্দ্র বসাক “গোপালগঞ্জ সংবাদ” কে বলেন, ইতিমধ্যে টুঙ্গিপাড়া ৫ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। তাই করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে জনগনকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যদি টুঙ্গিপাড়ার মানুষদের সুস্থ রাখতে পারি এটাই আমাদের সার্থকতা। তাই টুঙ্গিপাড়াবাসীদের অকারনে ঘোরাঘুরি না করে ঘরে থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্বামী স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়। এরপর আরো একজন আক্রান্ত হয়। এপর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ায় মোট ৫ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ও পরে গোপালগঞ্জ জেলা লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসক।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ