টুঙ্গিপাড়ায় প্রথম করোনা আক্রান্ত দম্পতি সুস্থ্য

রকিবুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া:
গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় প্রথম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত দম্পত্তি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। আজ বুধবার বিকাল ৫ টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে তারা ছাড়া পান। বাড়িতে গিয়ে এ দম্পত্তি ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এ সময় গোপালগঞ্জে সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জসীম উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই দম্পত্তির বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে ১৪ দিন চিকিৎসা করা হয়েছে। পরপর দু’বার তাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে। দু’বারই পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছে। তাই তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তারা ক্রমেই সুস্থ হতে থাকেন। প্রথমে তাদের গলাব্যাাথা ও জ্বর পুরো নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরে তাদের সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়। সুস্থ হয়ে উঠলে প্রথম গত ১৮ এপ্রিল ওই দম্পত্তির নমুনা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। তখন তাদের করোনা নেগেটিভ আসে। পরে গত ২০ এপ্রিল তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা ফের নেগেটিভ হয়। পরপর দু’বার করোনা নেগেটিভ হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তারা আগামী ১৪ দিন বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ওই দম্পতি ঢাকা থেকে মাদারীপুরের শিবচর হয়ে গত ৫ এপ্রিল টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মুন্সিরচর গ্রামের বাড়িতে আসেন। ৯ এপ্রিল তাদের দেহে করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়। ওই দিন রাতেই তাদের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
সুস্থ দম্পত্তি বলেন , হাসপাতালে ভর্তির পর নিয়মিত হাত ধুয়েছি। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলেছি। দু’ঘন্টা পরপর গরম পানি দিনে গলায় গারগিল করেছি। প্রচুর পানি পান করেছি। এছাড়া কম মসলা ও ঝাল দিয়ে রান্নাকরা স্বাভাবিক খাবার, ফল খেয়েছি। এভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সুস্থ হয়েছি।
তারা আরো বলেন, করোনা হলে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ হওয়া যায়। সুস্থ হয়ে তারা টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ওই দম্পত্তিকে ৪ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এরপর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের বাড়ি বাড়ি পৌছে দেয়া হয়।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ওই দম্পত্তিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা এটা মেনে চললেই সুস্থ্য থাকবেন।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ