জাবিতে উপাচার্য বিরোধী-পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতিহাতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্য বিরোধী ও পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে হাতিহাতি ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষকসহ সাতজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) উপাচার্যের বাসভবন অবরুদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের ইন্ধনে এ আন্দোলনে চলছে।

দুর্নীতির অভিযোগে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

আন্দোলনত শিক্ষক ড. আনোয়ার উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, তারা নির্মমভাবে আমাদের ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। তারা আমাদের ওপর আঘাত করেছে। তারা আমার এক ছাত্রকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে গিয়েছে।

উপাচার্যের পক্ষে শিক্ষাক ড. নঈম সুলতান বলেন, তারা শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির কাছে কথা দিয়ে এসেছেন, কোনো তথ্য থাকলে ৭ দিনের মধ্যে মন্ত্রীর কাছে জমা দিবেন। সেটা না করে তারা এখানে এসে ঘেরাও করে বসেছে। এটাতো হতে পারে না।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষক শিক্ষার্থী যখন একসঙ্গে দাঁড়ায় তখন শিক্ষক শিক্ষার্থী না ঠেকালে আমরা যেতে পারতাম না। ওদের মধ্যে ওদের যা হওয়ার হয়েছে, এটা আপনারা হামলা বলতে পারেন কিন্তু আমি বলবো না।

গত রোববার রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দুপক্ষ অবস্থান নেওয়ার পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিলো ক্যাম্পাসে।

আজ সকালে একটি মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আসে। এ সময় দুপক্ষের শিক্ষকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সেশন জটের আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হল নির্মাণের জন্য গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ২৩ আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু করে সাধারণ ও সাংস্কৃতিক জোটের শিক্ষার্থীরা।
দাবি আদায় না হওয়ায় পরবর্তীতে উপাচার্যের অপসারণের একদফা দাবিতে পরিণত হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচি।

 

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ