চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখলবাজদের নিয়ন্ত্রণে

চট্টগ্রাম নগরের সিরাজউদ্দৌলা সড়কে প্যারেড মাঠের পূর্বপাশে রাস্তার একাংশ দখল করে দেদারসে চলছে ইট-বালুর ব্যবসা । এছাড়া দিদার মার্কেট থেকে চকবাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের ওপর পার্কিং, ফুটপাতে ইট-বালুর ব্যবসা ও ভাড়ার জন্য ঠেলাগাড়িও রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চকবাজার এলাকায় ফুটপাতে দোকানের পণ্যও ছড়িয়ে রাখা হয়েছে ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্যারেড মাঠের পূর্বপাশে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উপর সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ইট, বালি ও ঠেলাগাড়ি। আর একই স্থানে ট্রাফিক বিভাগের নামে কয়েকটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে লেখা রয়েছে, “পার্কিং (এক সারিতে)”। অথচ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে হাজার হাজার যানবাহন। সড়কটির পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রাম কলেজ। অবৈধভাবে রাখা ইট, বালি ও ঠেলাগাড়ির কারণে শিক্ষার্থীরা নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠতে নিয়মিত দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। আর তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৈধতা দিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জায়গায় জনগণের দূর্ভোগ সৃষ্টিকারী এসকল ব্যবসা নির্বিঘেœ করতে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনকে নিয়মিত চাঁদা দেয় দখলকারীরা। সড়কের একাংশ দখল করে ট্রাক ও ঠেলাগাড়ি দাঁড় করিয়ে ইট-বালু বিক্রি হওয়ায় ভোগান্তিতে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। কিন্তু তারপরও অজ্ঞাত কারণে নিশ্চুপ হয়ে আছে এ সড়কের দায়িত্বে থাকা স্বয়ং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর জানালেন, এধরণের কর্মকান্ডের সাথে যারা জড়িত তারা অনেক প্রভাবশালী। আর তারা সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত চাঁদা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন জনপ্রতিনিধি কাজ করলে তার ভোট কমে যাবে। তাই অনেকটা জিম্মি হয়েই এসকল ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দিতে বাধ্য হয় জনপ্রতিনিধিরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এধরণের দূর্ভোগ নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের একাংশ ও ফুটপাতে ইট-বালুর ব্যবসা বসিয়েছে গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। প্রশাসন চাইলে এদের এক নিমিষেই আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের দূর্ভোগ লাঘব করতে পারে। কিন্তু তারপরও স্থানীয় প্রশাসন চোখে কালো চশমা পড়ে এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। অবশ্য এ সহযোগিতার পেছনে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, সড়ক দেখাশোনার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এ রকম নীরবতার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে এসব সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা। ফলে যে যার মত রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়া প্রতিদিন চকবাজার থানার টহল দল চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব গেটে দায়িত্ব পালন করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এসময় তারা আইনশৃঙ্খা রক্ষার্থে সাধারণ মানুষকে তল্লাশি চালালেও চোখের সামনে রাস্তা দখলের মত এত বড় অনিয়মকে দেখেও না দেখার ভান করছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ইট-বালু ব্যবসা পরিচালনাকারী কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপস্থিত কর্মচারীদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে এড়িয়ে যান।

তবে ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু জানান, এ ধরণের ব্যবসা পরিচালনা করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। বেশ কয়েকবার ঐ স্থানটি দখলমুক্ত করা হলেও কোন পরিবর্তন আসেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার বলেন, এর আগে বেশ কয়েকবার এসকল দখলবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। অভিযানের পর তারা পুনরায় একই স্থানে ব্যবসা শুরু করে। আবারও এ সড়কের আসল রুপ ফিরিয়ে আনতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ