ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি মেলায় চার উদ্ভাবন

রাকিব হোসেন,ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছিল তিন দিনব্যাপী বই ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনী মেলা।
এবার মেলা উপলক্ষ্যে ৪৭ টি স্টল বসেছে এসব স্টলে বই ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রদর্শন শোভা পাচ্ছে। মেলায় ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়লো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দুই বিভাগের চমকপ্রদ চার উদ্ভাবন।
 ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা  ইকো ফ্রেন্ডলি ইবি ক্যাম্পাস, ওয়াটার ডিস্যালানাইজেশন অ্যান্ড হাইড্রইলেট্রিক পাওয়ার প্লান্ট, ওয়াস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্লান এই তিনটি প্রজেক্ট উদ্ভাবন করেছে।
এই প্রজেক্টগুলো ব্যবহারে একাধিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। প্রজেক্টগুলোর ব্যবহারে দেশ একধাপ এগিয়ে যাবে ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
১০০ মিটার পর পর দুইটি করে ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে একটা পচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য ( সবুজ ডাস্টবিন)  অন্যটা অপচনশীল  বর্জ্য ফেলার জন্য ( লাল ডাস্টবিন)  থাকবে।
পচনশীল বর্জ্য বায়োগ্যাস প্লান্টে স্থানান্তর করা হবে। সাথে সাথে বিভিন্ন হল, ডিপার্টমেন্টের ওয়াস্ট পচনশীল বর্জ্য গুলোও বায়োগ্যাস প্লান্টে স্থানান্তর করা হবে । বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপাদিত হবে গ্যাস। এই গ্যাস বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনে সরবরাহ করা হবে। উপজাত বর্জ্য বাগানে সার হিসেবে ব্যাবহার করা হবে।  অপচনশীন বর্জ্য ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টে স্থানান্তর করার মাধ্যমে পুনঃব্যবহার এবং পুনঃউৎপাদন করা যাবে।
এ প্রজেক্টির ব্যাবহারে করে নবায়নযোগ্য উৎস থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। কয়লা এবং গ্যাসের উপর চাপ কমার সাথে সাথে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও কমবে। রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং করার মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা যাবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে।
ওয়াস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্লান: এই প্রজেক্টটি ব্যবহার করে শহরের ও আশেপাশের  বর্জ্যযুক্ত পানিকে দূষণমুক্ত করার মাধ্যমে বসত বাড়ির ব্যবহারের উপযুক্ত করার সাথে সাথে উক্ত পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং ফসলী জমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। এটি  গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল সমস্যা সমাধানে অনেকটা সাহায্য করবে।
ওয়াটার ডিস্যালানাইজেশন এন্ড হাইড্রোইলেট্রিক পাওয়ার প্লান্ট: এই প্রজেক্টটি ব্যবহার করে সমুদ্রের লবনাক্ত পানি থেকে লবন দূর করে খাওয়ার  উপযোগী করা এবং উক্ত পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
এছাড়া ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করেছে অ্যালজিমার ডিসেজ প্যাশেন্ট হেল্থ কেয়ারিং সার্ভিস প্রজেক্ট । যা বাংলাদেশে প্রথম। ডিভাইসটিতে টিতে সেন্সর লাগানো থাকবে। বার্ধক্যজনিত মানুষের পাশে অ্যালজিমার ডিজেজ পেশেন্ট হেল্থ ক্যায়ারিং সার্ভিস ডিভাইসটি থাকলে তার শরীরের সুস্থতা ও অসুস্থতার খবর তার নিকটাত্মীয়রা মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তায় জেনে যাবে। এটি শুধুমাত্র বার্ধক্য মানুষের জন্য কার্যকর।
এ বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিক আহমেদ বলেন,
‘আমরা আমাদের প্রজেক্টগুলো নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি পর্যায়ে আমরা কয়েকটি বিষয়কে প্রাধান্য দেবার চেষ্টা করেছি যেমন দূষণ রোধ করা, পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অনবায়নয়োগ্য শক্তির ব্যবহার কম করে নবায়নযোগ্য শক্তিকে ব্যাবহার করা।’
এ বিষয়ে  ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক বিপুল রায় বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ আত্মকেন্দ্রিক। সবাই নিজেক নিয়েই ভাবে। কিন্তু আমরা তিনটি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করেছি। প্রথমে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসকে নিয়ে ভেবেছি, তারপর দেশ এবং সর্বোপরি বিশ্বকে নিয়ে ভেবেছি। এই প্রজেক্ট গুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় উন্নত দেশের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এছাড়া দেশে বিদুৎ ও তেলের ঘাটতি কমে যাবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।’

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ