আধুনিকতার ছোঁয়ায় কবি নজরুল কলেজ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : 

বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজ। পুরাতন হলেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে ঐতিহাসিক এই ক্যাম্পাসে।

২০১৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত ৭ কলেজের একটি এটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ৭৫ শতাংশ উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করার লক্ষে চালু করা হয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। যার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

বিশাল এই ক্যাম্পাসটি ৭২টি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এবং সরাসরি অধ্যক্ষের অফিস থেকে সিসি ক্যামেরার মনিটরিং করায় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।  এছাড়াও ক্যাম্পাসটি সম্পূর্ণ মাল্টিমিডিয়া সম্পন্ন। এর ফলে শিক্ষকদের যেমন ক্লাস নিতে সমস্যা হয় না তেমনি বড় রুমে ক্লাস করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের।

আর আধুনিক এই যুগের সাথে মানিয়ে নিতে প্রয়োজন তথ্য প্রযুক্তি। সেই লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় চালু করে। সেই তথ্য-প্রযুক্তিতে ও পিছিয়ে নেই কবি নজরুল কলেজ । এর পরিপক্বতা দানের জন্য রয়েছে সুবিশাল কম্পিউটার ল্যাবরেটরি রুম। কলেজের যাবতীয় ফিও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমেই গ্রহণ করা হয়। শিওর ক্যাশের মাধ্যমেও ফি গ্রহণ করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পরিমাণ কমে গিয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে এখন আর রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে লাইনে দাড়াতে হচ্ছে না। সহজেই তারা একাডেমীক ফি প্রদান করতে পারছে।

আধুনিক এই যুগে দূরত্ব হয়েছে সংক্ষিপ্ত। পরিবহণ সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য রয়েছে দ্বিতল বিশিষ্ট লাল দুইটি বিআরটিসি বাস।

“সেই নয় আধুনিকতা
ধ্বংস করে অরণ্য,
সেই তো আধুনিকতা
প্রসারিত সবুজ অরণ্য”

সেই লক্ষে ক্যাম্পসের চার পাশের খালি জায়গা গুলোতে রোপন করা হয়েছে চারা গাছ। এর ফলে অরণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্যাম্পাস জুড়ে। এই সবুজ অরণ্যের মুক্ত বাতাসে ক্লাসের অবসর সময়ে মনকে সতেজ করার জন্য মাঠের চার পাশে ব্যবস্থা করা হয়েছে পাকা বেঞ্চের।

ক্যাম্পাসে থাকাকালীন শিক্ষার্থীর সুস্থতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মেডিকেল সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসের বি ভবনের নিচে।
এছাড়া ও রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাস্তার উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মুক্তমঞ্চ সংস্কার, সুয়ারেজ লাইন নির্মাণ, কলেজ মাঠের পরিচর্যা এবং সামনের ফটকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি।

এর ফলে কলেজটিকে আর ১৪৫ বছরের পুরাতন কলেজ বলে মনে হয় না। নতুন করে পুরাতন ইতিহাস বহন করছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ। তাই দিন দিন শিক্ষার্থীদের পছন্দের অন্যতম ক্যাম্পাস হয়ে উঠছে কবি নজরুল কলেজ।
এত সুদীর্ঘ পরিকল্পনা এই ক্যাম্পাসে বাস্তবায়ন করায় কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার-কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তার পরিকল্পনায় কলেজ ক্যাম্পাসটি প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলেও মনে করছে শিক্ষার্থীরা।

পাঠকের মতামত

আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ